President

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । এই হামলা পরিকল্পিত বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, ‘এতে সাংবাদিকেরাও আহত হয়েছেন। এই হামলা কারা করেছে তার সাক্ষী সাংবাদিকেরাই।’

আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে গাড়িবহরে রওনা হয়েছেন খালেদা জিয়া।

হামলার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ওবায়দুল কাদের এত কিছু জানার পরও যদি জেগে জেগে ঘুমান তাহলে আমাদের বলার কিছু নেই।’

বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, ‘আজ দেশের বিচার বিভাগ আক্রান্ত। মিডিয়াও আক্রান্ত হচ্ছে। কেউ এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের বিচার বিভাগ ও মিডিয়া দুটোই এখন আক্রান্ত। তাই দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার স্বার্থে ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের দেখতে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে গতকাল শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেনীতে কয়েক দফায় হামলার মুখে পড়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। এ সময় সাংবাদিকদের বহনকারী ৮টি গাড়িসহ ১৫-২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় সাংবাদিকসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি এই হামলার জন্য সরকার ও আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে।

গতকাল বিকেলে ও সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর, দেবীপুর ও বিসিক সড়কের মাথায় এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গাড়িবহরের ওপর পৃথক হামলা হয়। তবে খালেদা জিয়া এবং তাঁকে বহনকারী গাড়ি অক্ষত ছিল। এ ছাড়া গাড়িবহর পৌঁছানোর আগে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও ফেনীর মুহুরীগঞ্জে সমবেত হওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়। ফেনী-মাইজদী সড়কের দুধমুখা, তুলাতুলি ও বেকের বাজার এবং রাজাপুর-সিন্দুরপুর সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করা হয়। বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে ওই সব এলাকা থেকে লোকজন যাতে মহাসড়কে আসতে না পারেন, সে জন্য গতকাল সকালেই সড়ক অবরোধ করেছে সরকারি দলের লোকজন।

২৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:০৬ পি.এম