President

ঢাকা: মাদারীপুরে বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠান থেকে বিএনপি ও যুবদলের ১৭ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আটকের পর দুটি পুরাতন মামলায় আটক দেখিয়ে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর যে মামলায় পুলিশ তাদেরকে আটক দেখিয়েছে সেই মামলা দুটি ২০১৬ সালের ২৯ মে দায়ের করা বলে জানা গেছে। ফলে পুরনো দুই মামলায় অজ্ঞাত আসামীর স্থলে শিবচরের ১৭ নেতা-কর্মীদের ফাঁসিয়ে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভূক্তভোগীদের পরিবার।

এদিকে মাদারীপুর জেলা ও শিবচর উপজেলা বিএনপি’র একাধিক সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ঘোষিত সদস্য সংগ্রহের ফরম পূরণের জন্য শিবচর উপজেলার চরগুয়াতলা এলাকায় একত্রিত হন উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার নেতাকর্মীরা। প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী হুমায়ন কবির। কর্মসূচি চলাকালীন সময় পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অন্যদিকে একই স্থান থেকে শিবচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম মৃধাসহ ১৭ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরে ৬ আগস্ট পুরোনো দুটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলা দায়রা জজ আদালতে আসামীদের হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর ১০ আগস্ট মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক জাকির হোসেন তাদের একটি মামলায় জামিন দিলেও অপর মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগীদের পরিবার জানান, ২০১৬ সালের ২৯ মে শিবচরের পাঁচ্চরে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বজলু মাদবর ও এএসআই তৌহিদুজ্জামান বাদী হয়ে থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন। অর্থাৎ দীর্ঘ ১ বছর আগে দায়ের করা দুই মামলায় এই ১৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশের বাদী হওয়া মামলায় ১০ জনের জামিন হয়। কিন্তু বজলু মাদবরের মামলাটিতে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে ১৬ আগস্ট পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মৃধার বড় ভাই শাহাদাৎ হোসেন মুন্না বলেন, শান্তিপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান থেকে আমার ভাইসহ ১৭ নেতাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সবাইকে আদালতে প্রেরণ করে। এছাড়া আমার ভাইয়র নামে কখনো থানায় কোন মামলা তো দুরের কথা সাধারণ একটি জিডিও নেই। কিন্তু পুলিশ অন্যায়ভাবে আমার ভাইকে পুরনো মামলায় অজ্ঞাত আসামী হিসেবে উল্লেখ করেছ। আমি এই ঘটনায় আইনগত প্রতিকার দাবী করছি।


মাদারীপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মুরাদ বলেন, দলীয় কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে নেতাকর্মীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুরাতন দুই মামলার আসামী করে কারাগারে পাঠায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রকৃত বিচার দাবি করছি।

মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন,আদালতে পাঠানো ১৭ জনের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা ছিলো। তবে তাদের সবার ব্যক্তি নামে মামলা ছিল না, ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত আসামী হিসেবে আদালতে পাঠানো হয় বলে তিনি দাবী করেন।

নাগরিককণ্ঠ ডটকম

১৪ আগষ্ট, ২০১৭ ১৭:৪২ পি.এম