President

রহমতের দশ রোজা শেষ হয়ে এখন আমরা মাগফেরাতের দশকে আছি। একুশ রমজান থেকে শুরু হবে নাজাতের দশক। এর মধ্য দিয়ে বিদায়ের দিকে দ্রুত এগুতে থাকবে মুমিনদের সিময়াম সাধনার পবিত্র মাস রমজান। রমজান মাসের মধ্য এই দশককে মুসলমানদের গুনাহ মাপের জন্য নির্ধারণ করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। কারও কারও মতে, প্রথম দশ রোজা পালনের পর বান্দারা ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠেন। পবিত্র এই রমজান জুড়ে গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করেন মহান আল্লাহ। কিন্তু মধ্য এ দশকে ক্ষমাপ্রার্থী বান্দাদের ব্যাপকভাবে ক্ষমা করেন তিনি। নানান হাদিসের বর্ণনায় সে তথ্য পাওয়া যায়। হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.) বলেন, একবার রমজানের কিছু পূর্বে একদিন হযরত মুহাম্মদ (সা.) এরশাদ করলেন, তোমাদের সামনে রমজান আসন্ন। এ মাস অত্যন্ত বরকতের মাস। আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এ মাসে। রহমত বর্ষণ করেন এবং গুনাহ মাফ করেন (তাবরানী। আবার কোনও কোনও হাদিস থেকে জানা যায়।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, রমজান উপলক্ষে আমার উম্মতকে এমন পাঁচটি বস্তু দেয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী উম্মতদের দেয়া হয়নি। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মৃগনাভী থেকেও অধিক পছন্দনীয় এবং জলের মাছ রোজাদারের জন্য ইফতার পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে (মুসনাদে আহমদ, বায়হাকী)। মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন অত্যন্ত ক্ষমাশীল। নানান উছিলায় বান্দাদের ক্ষমা করতেই চান তিনি। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে এবং জেনে রাখ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’য়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম সহনশীল (বাকারা : ২৩৫)। হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও। আল্লাহর রঙ বা গুণ কি? তা হলো আল্লাহ তা’য়ালার গুণবাচক ৯৯ নাম। এই বিষয়ে হাদিস শরিফে এসেছে, নিশ্চয় আল্লাহ তা’য়ালার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যারা এগুলো মুখস্ত করবে; তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে (মুসলিম ও তিরমিযী)।

মহান আল্লাহর নামাগুলো মুখস্ত করার কিংবা ধারণ করার অর্থ হলো সেগুলোর ভাব এবং গুণ অর্জন করা ও সেসব গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্য নিজের কাজে কর্মে, আচরণে প্রকাশ করা তথা নিজেকে সে সকল গুণের আধার কিংবা অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলা। তাই রমজান মাসের মধ্য দশক যেহেতু মাগফেরাত বা ক্ষমার, সুতরাং এই ১০ দিন আমাদের করণীয় হবে আল্লাহপাকের ক্ষমা সংক্রান্ত নামসমূহের জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করে এর ভাব-প্রভাব ও বৈশিষ্ট অর্জন এবং অধিকার করে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করার চেষ্টা করা এবং আজীবন তার ধারক–বাহক হয়ে তা দান করা বা বিতরণ করা তথা আল্লাহর গুণাবলী নিজের মাধ্যমে তার সৃষ্টির কাছে পৌঁছে দেয়া।

টাইমস ওয়ার্ল্ড ২৪ ডটকম/এস আর/এ আর/আইএস/ ১১ জুন ২০১৭

১১ জুন, ২০১৭ ১০:৪০ এ.ম